১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি
শনিবার ০০:০০:০০ PM
Alt Text: AI News24 - Latest AI News and Updates

**বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী – চ্যানেল 24**

**ঢাকা, [আজকের তারিখ]:** বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারী এবং ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে চ্যানেল 24-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছুদিন ধরে অস্থিরতার পর মূল্যবান এই ধাতুর দর পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। এই উত্থান এমন এক সময়ে ঘটছে যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বর্ণের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যেখানে দামের ওঠানামা ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি রুপার দামেও বড় পতন দেখা গিয়েছিল, যা অনেক বিশ্লেষককে আশঙ্কিত করেছিল। তবে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ আবারও তার চিরাচরিত ‘নিরাপদ আশ্রয়’ (safe haven) হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে শুরু করেছে এবং দামের পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। এক আউন্স স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট অঙ্কের তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারের প্রেক্ষাপটে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করছে। প্রথমত, বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা তাদের নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্বর্ণ ঐতিহ্যগতভাবে একটি নির্ভরযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোতে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং এর মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি সুদহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলিও স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করছে। যখন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা তাদের সম্পদের মূল্য ধরে রাখতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে থাকে।

এছাড়াও, মার্কিন ডলারের অবস্থান স্বর্ণের দাম নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডলার যখন দুর্বল হয়, তখন অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য স্বর্ণ কেনা সস্তা হয়ে যায়, ফলে এর চাহিদা বেড়ে যায় এবং দাম বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি ডলারের কিছুটা দুর্বলতাও স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তাদের রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণ কেনা বাড়িয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই প্রবণতা বাংলাদেশের মতো স্থানীয় বাজারগুলোতেও প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আন্তর্জাতিক বাজারদর, স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ, এবং আমদানি শুল্কের ওপর ভিত্তি করে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে থাকে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে সাধারণত দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। যেমন, পার্শ্ববর্তী ভারতের কলকাতার বাজারেও বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়েছে এবং সেখানেও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। যদিও স্বল্প মেয়াদে দামের কিছুটা ওঠানামা হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ এখনো একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যখন স্টক মার্কেট এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়ে। রুপার দামে পতন সত্ত্বেও, সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনো অটুট রয়েছে, যা এর বাজার মূল্যকে সামনের দিনগুলোতে আরও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *