**গাড়িতে ধাক্কা ও ছেলেকে মারধরের অভিযোগ মনিরা মিঠুর**
জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনিরা মিঠুর গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িত হওয়া এবং তার ছেলেকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মিরপুরের পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোমবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত জনসমক্ষে আসে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় অভিনেত্রী মনিরা মিঠুর ছেলে আদনান তার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অপর একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে তাদের গাড়ির সামান্য ধাক্কা লাগে। এই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপর গাড়ির চালক ও তার সঙ্গীরা মনিরা মিঠুর ছেলে আদনানের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অপর গাড়ির চালক, যার নাম আলিক বলে জানা গেছে, এবং তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন যুবক আদনানকে গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে মারধর শুরু করে। তারা আদনানকে বেধড়ক কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। আশেপাশের অনেক মানুষ ঘটনার সাক্ষী থাকলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে কেউ তাদের থামাতে এগিয়ে আসেননি। পরে কিছু লোক এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই নির্মম মারধরের ভিডিওটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে অভিনেত্রী মনিরা মিঠু দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তার আহত ছেলেকে উদ্ধার করেন। ছেলের এমন করুণ অবস্থা দেখে তিনি মর্মাহত হন। এরপর তিনি রাতেই মিরপুরের পল্লবী থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি আলিক এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গণমাধ্যমকে মনিরা মিঠু জানান, তার ছেলেকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, একটি সামান্য গাড়ির ধাক্কাকে কেন্দ্র করে এমন বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারা অভিনেত্রী মনিরা মিঠুর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওসি আশ্বাস দিয়েছেন যে, দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় সমাজে নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার প্রশ্ন সামনে এসেছে এবং অনেকেই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন।