১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি
শনিবার ০০:০০:০০ PM
Alt Text: AI News24 - Latest AI News and Updates

**মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক সমাবেশ: এফ-২২, এফ-৩৫ সহ কী কী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন?**

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। সর্বাধুনিক এফ-২২ র‍্যাপ্টর ও এফ-৩৫ জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার জেটসহ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর ধারাবাহিক হামলার পর ওয়াশিংটন তেহরানকে কঠোর বার্তা দিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, শুধু এফ-২২ ও এফ-৩৫ নয়, ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকেও (USS Dwight D. Eisenhower Carrier Strike Group) এই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এই স্ট্রাইক গ্রুপে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজ মিসাইল এবং আরও বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এছাড়াও, এফ-১৫ ও এফ-১৬ সহ অন্যান্য ফাইটার জেট এবং অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে এ যাবতকালের অন্যতম বৃহৎ সামরিক সমাবেশ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো দ্বারা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধে সক্ষমতা প্রদর্শন করা। কর্মকর্তারা আরও জানান, এই বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে তেহরানকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে মার্কিন স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মন্তব্য করেছেন যে ইরান ও পশ্চিমের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই মন্তব্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং মার্কিন সামরিক সমাবেশের পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সামরিক সমাবেশ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের আবহে যখন গোটা অঞ্চল এমনিতেই উত্তপ্ত, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং এর ফলে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মূল্যে তার আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর, যা এই অস্থির পরিস্থিতিকে আরও বিপদজনক করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *